নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : মুর্শিদাবাদের বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ও তার প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের তীব্র বিরোধিতা করে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে অভিযোগপত্র জমা দিল ভারতের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান অখিলভারত হিন্দুমহাসভা । রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে হিন্দুমহাসভার রাজ্য কমিটির সাস্যরা রাষ্ট্রপতির চিফ সেক্রেটারির হাতে অভিযোগপত্র দিয়ে বাবরি মসজিদের বিরোধিতা করলেন । রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন তৃণমূলের বিতাড়িত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আলাদা রাজনৈতিক দল করে নির্বাচনে লড়াই করতে পারেন কারণ ভারতের নির্বাচন কমিশন ওনাকে সেই অধিকার দিয়েছে, কিন্তু ভারতবর্ষে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অধিকার কারো নেই কারণ ভারতের মাটি সেই অধিকার দেয়না । বাবর একটি বিদেশী লম্পট দুর্বৃত্ত দস্যু যে ভারতবর্ষে রামমন্দির আক্রমণ করার মত গর্হিত পাপ করেছে ।
সেই বাবরের নামে ভারতের মাটিতে মসজিদ নির্মাণের কথা ভাবার স্পর্ধা কারো হয় কি করে ? আমরা সনাতনীরা বাবরের অস্তিত্বকে ঘৃণা করি কারণ রামমন্দির পুনর্নির্মাণের জন্য কত মানুষ তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন । হুমায়ুন কবীর আসলে বাংলার মাটিতে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও মুসলিম মৌলবাদকে ব্যবহার করে একদিকে যেমন প্রচারের আলোয় থাকতে চান, অন্যদিকে নিজের পার্টির জন্য বিপুল অঙ্কের টাকাও উনি তুলেছেন । কিন্তু ওনার মাথায় রাখা উচিত উনি আগুন নিয়ে খেলছেন । আমাদের স্থির বিশ্বাস যারা ভারতের মাটিতে বাবরি মসজিদ করতে চায়, ভারতের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সেই দেশদ্রহীদেরকে হয় বাবরের দেশে নয়তো বাবরের কাছে পাঠিয়ে দেবে । বাবরের প্রতি যদি এত ভালোবাসা থাকে তাহলে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজের বাবার নাম শেখ আরশাদ আলির বদলে এফিডেভিট করে জাহিরুদ্দিন মহম্মদ বাবর করে নিয়ে ভারত ছেড়ে বাবরের দেশে চলে যাক । আমরা অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পক্ষ থেকে মসজিদ নির্মাণের বিরোধী নই ।
কিন্তু বাবরি মসজিদ আমরা হতে দেবনা । ওরা যদি জাতীয়তাবাদী মুসলমান হয় তাহলে ওদের বাবরি মসজিদের বদলে গার্দি মসজিদ করা উচিৎ । আফগান লুটেরা আহমদ শাহ আবদালি যখন ভারত আক্রমণ করে তখন তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধে মারাঠাদের পক্ষে যুদ্ধ করে ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ইব্রাহিম খান গার্দি । তাই হুমায়ুন কবীর যদি সত্যি জাতীয়তাবাদী ভালো মুসলমান হন তাহলে ওনাদের গার্দি মসজিদ করা উচিৎ । তাহলে আমরা হিন্দু মহাসভার সদস্যরাও সাধ্যমত অর্থ সাহায্য করবো । হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধি মণ্ডলে রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ছাড়াও অফিস সেক্রেটারি অনামিকা মন্ডল, সোমা দে মন্ডল, দীপঙ্কর রায়, জিতেন গোস্বামী সহ একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন । বাবরি মসজিদ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে হিন্দুমহাসভার চিঠি বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে একটি বিশেষ মাত্রা যুক্ত করলো বলেই ওয়াকিবহল মহলের অনুমান ।