তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার সেই দুই মাতৃ-পিতৃহীন শিশুর কথা আমরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে একাধিকবার আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। কখনও তাদের অসহায়তা, কখনও অনাহারের ছবি। কিন্তু আজ আর অভাবের গল্প নয়—আজ বলছি ভরসা, সহানুভূতি আর নতুন করে বাঁচার গল্প।এক সময় মাথার উপর ছিল কেবল ত্রিপলের ছাউনি, আজ সেখানে গড়ে উঠছে পাকা ঘরের স্বপ্ন। প্রশাসনিক উদ্যোগ ও শুভানুধ্যায়ী মানুষের সহযোগিতায় জোরকদমে শুরু হয়েছে নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ। ভাঙা, অস্থায়ী ঘর ভেঙে তৈরি হচ্ছে স্থায়ী আশ্রয়—যা শুধু চার দেওয়াল নয়, বরং নিরাপত্তা আর নিশ্চিন্ত ভবিষ্যতের প্রতীক।শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, দুই শিশুর শিক্ষার দায়িত্বও নিয়েছে প্রশাসন। তাদের ভর্তি করা হয়েছে সুতছড়া প্রাইমারি বিদ্যালয়ে। স্কুলের পক্ষ থেকে মিড-ডে মিল, পোশাক, বই-খাতা—প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরণই তুলে দেওয়া হয়েছে শিশুদের হাতে। দীর্ঘদিন পর নিয়মিত পড়াশোনার আনন্দ ফিরেছে তাদের চোখে।এই দুই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার একাধিক বিশিষ্ট শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তি।
প্রতিদিনই কেউ না কেউ আসছেন খোঁজ নিতে, কেউ খাবার নিয়ে, কেউ জামাকাপড়, আবার কেউ শুধুই ভালোবাসা আর আশ্বাস নিয়ে। এমনকি সবং-পিংলা সার্কেলের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকেও শিশুদের সঙ্গে দেখা করে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তার হাত বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে ব্লক প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের তরফে জানানো হয়েছে, এই দুই শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।নতুন বছরের শুরুতে তাই আর ভয় নয়, অনিশ্চয়তা নয়—আজ এই দুই মাতৃ-পিতৃহীন শিশু স্বপ্ন দেখছে নতুন জীবনের। চোখে তাদের এখন ভরসার আলো, মুখে হাসির ছোঁয়া। সমাজ আর প্রশাসন মিলেই প্রমাণ করল—মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালে, কোনও শিশুই একা থাকে না।আজ পিংলা দেখাল, মানবিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।