আদৃত পাল, পশ্চিম মেদিনীপুর।
প্রায় চার পাঁচ মাস ধরে নিদারুণ কঠোর পরিশ্রম ও যত্নের সহিত মাঠে ফলানো সোনালী মা লক্ষ্মীকে চাষীরা বাড়িতে নিয়ে আসে। বিশেষ ভাবে পূজো করে জমিতে না কেটে রাখা এক আঁটি ধানগাছ। সেই আঁটি কে সযত্নে তুলে রাখা হয় খামার পূজোর জন্য। যার পূজো হয় ঘরের সামনে বাহিরে/খামার এ। এই জন্য এই পূজো খামার পূজো নামে বেশি খ্যাত।সন্ধ্যের সময় থেকে শেয়াল এবং পেঁচার নাম উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ, এদের ডাক শোনার মাধ্যমে পূজোর সূচনা হয়। অনেক অপেক্ষার পর সেই ডাক শুনে গ্রাম বাংলার চাষিরা উদ্বেল হয়ে ওঠে । চাষি বাড়ির পুরুষেরা তখন ব্যস্ত হয়ে ওঠেন সেই পূজো যথাযথ মর্যাদায় শুরু করতে। কৃষির অধিষ্ঠাত্রীদেবী “লক্ষ্মী”। সেই লক্ষ্মীর কৃপা পেতে, সংসারে ও ঘরে তাঁকে অচলা করে রাখতে সংক্রান্তির দিন বা সংক্রান্তির পরের দিন গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে এই লক্ষ্মীপূজো করা হয়, সেই পূজো- ই “বাহির পূজো” বা “পৌষলক্ষ্মী পূজো” বা “খামার পূজো” বলেই খ্যাত।পূজোর আগের দিন গোটা বাড়ি/খামার গোবর দিয়ে নাতা দেওয়া হয়। ওই গোবরজল একটু শুকিয়ে গেলে আল্পনা দেওয়ার মতো করে লালমাটি বা এলামাটির প্রলেপ দেওয়া হয়, যাতে সাদা আল্পনা ভাল করে ফুটে উঠতে পারে। আগে আতপ চাল বেটে আল্পনা দেওয়া হত। এখন অবশ্য খড়িমাটি ব্যবহার করা হয়। ভালো সুতির কাপড় এ করে ওই সাদা গোলা ভিজিয়ে হাতের অনামিকা ও মধ্যমা আঙ্গুল কে কাজে লাগিয়ে নিপুণভাবে আল্পনা ফুটিয়ে তোলা হয়।
লক্ষ্মীর পা, ধানের শিষ, কুলো, মড়াই, পেঁচা ছাড়াও ফুল, লতা, পাতা নানা রকম কলকা প্রভৃতি যে দক্ষতায় আঁকা হয়, তা দেখলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। প্রায় অমসৃণ মাটির উপরে রং-তুলি ছাড়াও যে অনন্য শিল্পকর্ম সম্ভব তার প্রমাণ গ্রামের এই আল্পনা গুলি। এই পূজোর পরের দিন বিশ্রাম দিন হিসাবে পালিত হয়।।।