তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর প্রজাতন্ত্র দিবসের ভোরে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকায় থার্মোকলের একটি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার ভোররাত আনুমানিক আড়াইটে নাগাদ হঠাৎ করেই গোডাউন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে দমকলের ১০টিরও বেশি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালায়। বহু চেষ্টার পর আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও ভেতরের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ঘটনার সময় গোডাউনের ভিতরে একাধিক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
যদিও শুরুতে হতাহতের কোনও নিশ্চিত খবর মেলেনি, তবে আগুনের ভয়াবহতার কারণে ভেতরে কয়েকজন আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হয়। দমকল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকে। সূত্রের খবর, পিংলা থানার জলচক-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মালিগেড়িয়া গ্রামের তিন যুবক—বিশ্বজিৎ সাউ, অনুপ প্রধান ও কৃষ্ণেন্দু ধাড়া—ওই থার্মোকলের গোডাউনে কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকেই তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবারের দাবি, তিনজনই কাজের সূত্রে কলকাতায় গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভয়াবহ আগুনে তাঁরা অগ্নিদগ্ধ হয়ে থাকতে পারেন, যদিও এখনও পর্যন্ত দেহ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখছে দমকল ও পুলিশ। জানা গিয়েছে, গোডাউনের ভিতরে রান্নাবান্নার কাজ চলত। গ্যাসের ব্যবহার, শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণ থেকে আগুন লেগেছে—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবরে মালিগেড়িয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনজনই বিবাহিত ছিলেন। তাঁদের স্ত্রী, ছোট ছোট সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। সংসারের হাল ধরতেই তাঁরা কাজের খোঁজে কলকাতায় পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একই গ্রামের তিন তরতাজা যুবকের নিখোঁজের ঘটনায় গোটা গ্রাম আজ স্তব্ধ, শ্মশানের নীরবতায় ঢেকে গেছে চারপাশ।ঘটনার তদন্ত চলছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেই উত্তর এখনও অধরা।