*পুজোর আনন্দ ছড়িয়ে দিতে প্রত্যন্ত গ্রামে ‘মাতৃশক্তি’, নতুন বস্ত্র ও শিক্ষা-সামগ্রী পেলেন হাজারেরও বেশি শিশু-কিশোর*!!

এখনই শেয়ার করুন

**তৃষ্ণা চক্রবর্তী, পশ্চিম মেদিনীপুর:-উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দের আলো পৌঁছে যায় সমাজের প্রান্তিক মানুষের ঘরেও। শারদোৎসবের আবহে সেই মানবিকতার বার্তাই ছড়িয়ে দিল ঘাটালের একদল মহিলার উদ্যোগ ‘মাতৃশক্তি’। শুধু পুজোর আনন্দ উদ্‌যাপন নয়, প্রত্যন্ত গ্রামের শিশু-কিশোরদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে এলেন এই উদ্যোগের সদস্যারা।ষষ্ঠী ও সপ্তমী তিথিতে ঘাটাল, দাসপুর ও চন্দ্রকোনা বিধানসভার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া গ্রামে পৌঁছে যান মাতৃশক্তির সদস্যারা।

তাঁদের এই উদ্যোগে এক হাজারেরও বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুজোর নতুন বস্ত্র, বই, খাতা, পেন এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন। উৎসবের মরশুমে নতুন পোশাক পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি পড়াশোনার উপকরণ পেয়ে খুশি হয় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। একই সঙ্গে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই কর্মসূচিতে।উৎসবের আনন্দ অনেক সময় আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের কাছে অধরাই থেকে যায়। নতুন পোশাক কিংবা পড়াশোনার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সামর্থ্য সব পরিবারের থাকে না। সেই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই মাতৃশক্তির এই উদ্যোগ।

শিশুদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের পুজোর আনন্দে সামিল করা এবং শিক্ষা-সামগ্রী দিয়ে পড়াশোনার পথে উৎসাহ জোগানোই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।অন্যদিকে, কিশোরীদের হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নারীস্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতার গুরুত্বও তুলে ধরেছে এই উদ্যোগ। সমাজে এই বিষয়গুলি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং কিশোরীদের সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও এমন কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ।মাতৃশক্তির এই প্রয়াসকে শুধুমাত্র বস্ত্র বা শিক্ষা-সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না উদ্যোক্তারা।

এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিকতা এবং আগামী প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক বার্তা। প্রত্যন্ত গ্রামের শিশু-কিশোরদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।এই উদ্যোগে সামিল হয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস, পাঞ্চালি পাল, প্রিয়াঙ্কা পাল, তিয়াসা পাল, শম্পা পাল, পিংকি পাল, শ্রেয়া চক্রবর্তী, মেঘা পরামানিক, ইশা পরামানিক, দেবস্মিতা গুই, সৌমিলি সাঁতরা, মিতা হাজরা এবং যুথিকা দত্ত।

শারদোৎসবের আলোর মধ্যেই মাতৃশক্তির এই মানবিক উদ্যোগ মনে করিয়ে দিল, উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা শুধু আলোকসজ্জা, মণ্ডপ কিংবা আনন্দ-উদ্‌যাপনে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিশুদের স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রতিটি মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে উৎসবের আসল অর্থ।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *