বাবলু বন্দোপাধ্যায়। তমলুক:- পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট নতুন বাজারে সার্বজনীন শারদোৎসব এইবছর ৫৪ তম বর্ষে পদার্পণ করল। এই বৎসর এখানে পুজো উদ্বোধনে একটু ব্যতিক্রমী ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।এখানে এই বৎসর সম্মিলিতভাবে মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে পুজোর সূচনা করবেন কোলাঘাট এলাকায় বিভিন্ন পুজো আয়োজনের প্রতিমা, প্যান্ডেল, লাইট, মাইকের প্রায় শতাধিক শিল্পী এবং কারিগর শ্রমিকরা। অনেকদিন আগে থেকে যারা মন্ডপের জন্য মাটি খুঁড়ে প্রথম খুটি স্থাপন করেন, খড়মাটির কাঠামোতে যারা তিল তিল করে মৃন্ময়ী রূপদান করেন,যারা দিনের পর দিন নিপুন হাতে ঠাকুর দেবতার শোলার গহনা গড়ে তোলেন,যারা বাঁদুড় ঝোলা হয়ে আলোকসজ্জার কাজ করেন, সেই মুখগুলোই উৎসবের কদিন উৎসবমুখর লাখো মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায়। যারা উৎসব আয়োজনে ঘাম ঝরিয়ে শ্রম দেন, নানা ভাবনা শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলেন, উৎসবের কদিন তাঁদের খোঁজ কজন রাখেন।
তাদের সম্মান জানাতেই এই ভাবনা বলে আয়োজকদের পক্ষ হতে বলা হয়েছে।পুজো কমিটির সম্পাদক সম্রাট ভৌমিক জানিয়েছেন, পুজোয় আমরা অনেক আনন্দ করি, বহু মানুষ পুজোর নানা আয়োজন দেখে আনন্দ পান। কিন্তু এর পিছনে দিনরাত এক করে যারা শ্রম দেন, তারা রয়ে যান আড়ালে। তাই আমরা উৎসব অনুষ্ঠানের প্রকৃত শিল্পী এবং শ্রমিকদের সসম্মানে সম্বর্ধনা জানিয়ে ধন্য হতে চাই। ওনারাই মঙ্গলদ্বিপ জ্বেলে আমাদের এই বৎসরের শারদোৎসবের সূচনা করবেন। আমরা ওনাদের সম্বর্ধনা জানিয়ে হাতে তুলে দেব পুজো উৎসবের বিশেষ উপহার।”চন্দনের তিলক, উত্তরীয়, ফুল, নতুন বস্ত্র, উৎসবের উপযোগী খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়ে এইসব মানুষদের বরণ করে নেওয়ার জন্য সেজে উঠছে এবারে এই পুজো প্রাঙ্গণ।
প্যান্ডেল মিস্ত্রী রাজেশ দাস, প্রতিমা শিল্পী উত্তম মুখার্জি, শোলার গহনা শিল্পী নিমাই মালাকার, আলোকসজ্জার কারিগর বিরাজ দাস এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে খুব খুশি। প্রতিমা শিল্পী রাজেশ পাল জানিয়েছেন, এর আগে এভাবে আমাদের কেউ ডাকেনি। বিভিন্ন পুজোয় অর্ডার মত প্রতিমা গড়ে তুলি। কিন্তু আমাদের দিয়েই কোন পুজোর উদ্বোধন হবে , এটা আমার কাছে দারুন ব্যাপার আমি ভাবতেই পারছিনা।”পুজো কমিটির সভাপতি অভিজিত সামন্ত জানিয়েছেন, পুজো উপলক্ষে আমরা প্রায় দুই শতাধিক বয়স্ক মানুষের হাতে চলাফেরার সুবিধায় স্টিলের সুদৃশ্য লাঠি, ক্রাচ,হুইল চেয়ার তুলে দেব। প্রায় দুই শতাধিক মানুষের চোখে পাওয়ার ম্যাচিং চশমা পরিয়ে দেবে।
এলাকার বিশেষ পেসেন্টদের এক মাসের সুষম খাদ্য বিতরণ করা হবে। “সহ সভাপতি ডাঃ শ্যামল আদক জানিয়েছেন,-“এই পুজো উপলক্ষেই গত একমাস আগে রাজ্যের ষোলটি জেলার প্রায় ১৮০ জন অঙ্গ হারা মানুষের কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন করে দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিনাব্যয়ে।”এই মন্ডপে এবারে অন্যতম আকর্ষণ কুমারটুলির বিখ্যাত মৃৎশিল্পীর তৈরী প্রায় বিশ ফুট উচ্চতার দূর্গা বাহিনী। পুজোর চারদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সাথে আগত প্রায় পঞ্চাশ হাজার দর্শনার্থীদের হাতে হাতে ভোগ প্রসাদ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
