এখনই শেয়ার করুন।

বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়,তমলুক:বছর ঘুরতে গেল পাঁশকুড়ার ভয়াবহ বন্যায় এখনো পর্যন্ত ৬২ শতাংশ লেসে নদীবাঁধ নির্মাণের কাজের ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু, কাজের গুণমান নিয়ে ক্ষোভ, ব্লক অফিসে ডেপুটেশন।পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা এখনো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আগামী বর্ষার পূর্বেই নিউ কাঁসাইয়ের ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ জদরা-পুরুষোত্তমপুর-মানুর-উদয়পুর প্রভৃতি স্থানে গত বর্ষায় ভেঙে যাওয়া অংশগুলি শক্তপোক্তভাবে নির্মাণ,পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার সংলগ্ন এলাকার সুষ্ঠু জলনিকাশী সমস্যার সমাধানে মাস্টার ড্রেনেজ স্কীম রূপায়ণ,বর্ষার পূর্বেই জয়গোপাল,কামিনা সহ সোয়াদিঘী খালের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার,১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের গোবিন্দনগর গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন মৌজাগুলির জলনিকাশী সমস্যা সমাধানে জাতীয় সড়ক বরাবর নাসা খালের ভেতর অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করে নাসা খাল পূর্ণাঙ্গ সংস্কার,মজে যাওয়া বেহুলা নদী সংস্কার সহ বন্যা পরিস্থিতির সময় কংসাবতীর খানিকটা জল মেদিনীপুর ক্যানেল দিয়ে সরাসরি রূপনারায়ণের ফেলার দাবীতে মঙ্গলবার পাঁশকুড়া বন্যা প্রতিরোধ ও খাল সংস্কার সংগ্রাম সমিতির পক্ষ থেকে বিডিও অফিসে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি দিল। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সমিতির উপদেষ্টা নারায়ন চন্দ্র নায়ক,সভাপতি কল্যাণ রায়,সম্পাদক দীপঙ্কর মাইতি ও  সদস্য লক্ষী কান্ত সাঁতরা প্রমুখ।

বিডিও প্রতিনিধি দলকে জানান, কাঁসাই নদীর ৪ জায়গায় ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধের উদয়পুরে পূর্ণাঙ্গ বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। গড় পুরুষোত্তমপুর-জদড়া-মানুর এই তিন জায়গায় নদীবাঁধ বাধার কাজ গত সপ্তাহে  শুরু হয়েছে। অন্যান্য দাবিগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন বি ডি ও অমিত কুমার মন্ডল।  সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে,গড়পুরুষোত্তমপুরে ১০০ মিটার ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ নির্মানের জন্য ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৬৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জদরাতে ৯৫ মিটার ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ নির্মানের জন্য ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৫৩ হাজার ৬০৯ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মানুরে ১২৫ মিটার ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ৪১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫৫৯ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

ঠিকাদার গড়পুরুষোত্তমপুরে ৬২ শতাংশ,জদরায় ৬১.৬১ শতাংশ,মানুরে ৬২ শতাংশ লেস এ কাজ ধরেছে।  উদয়পুরে ৫০ মিটার ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ নির্মানের জন্য আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। সর্বসাকুল্যে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা মঞ্জুর  করা হয়েছে। ১৯ মার্চ একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষরিত ওই কাজের ওয়ার্ক অর্ডারে কাজের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে দু মাস। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন্যা-ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র নায়ক ৬২% লেসে ধরা বাঁধ নির্মাণের কাজে কতটা গুণমান বজায় থাকবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।              

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *